

বগুড়ার শিবগঞ্জে মোহাম্মদ আলী সরকার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ মিল মালিককে হাত, পা ও মুখ বেঁধে মাথায় নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘাতকেরা হত্যাকাণ্ডের পর ওই মিলের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাঙচুর করে ভেতরের মূল্যবান তামা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ট্রান্সফরমার চুরির সময় চিনে ফেলার আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
গত রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার নবগঠিত বেতগাড়ী ইউনিয়নের ফেনীগ্রাম ফুলতলা এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ আলী সরকার ফেনীগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি চাতাল ও ভাঙারি মিলের মালিক ছিলেন।
যেভাবে প্রকাশ্যে আসে হত্যাকাণ্ড
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী সরকার প্রতিদিনের মতো গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষ করে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে নিজের মিলে যান। তিনি রাতের বেলা মিলেই অবস্থান করতেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পাশের ডাবইর গ্রামের আতোয়ার নামের এক ব্যক্তি ওই মিলে মরিচ ভাঙাতে আসেন। তিনি মিলের বাইরে থেকে দীর্ঘক্ষণ মোহাম্মদ আলীকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল আজিজকে বিষয়টি জানান।
পরবর্তীতে ওই ভ্যানচালক দ্রুত মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে গিয়ে খবর দিলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা মিলের পেছনের দরজাটি খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের ভেতর ঢুকতেই চৌকির (খাটের) ওপর মোহাম্মদ আলীর হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথার পেছনে ও মুখে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল। একই সঙ্গে মিলের চত্বরে থাকা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাঙচুর ও ভেতরের মালামাল খোয়া যাওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীজ্জামান শাহীন ‘প্রিয়ভূমি’কে বলেন “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র মিলের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছিল। মিল মালিক মোহাম্মদ আলী চোরদের চিনে ফেলায় বা বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় সজোরে আঘাত করে হত্যা করেছে।”
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত চোর চক্রের সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যে অভিযানে নেমেছে। এই ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন