
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্মারক ‘শিখা অনির্বাণ’ নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। সেনাসূত্র বলছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে গত ২ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২ মে থেকে শিখা অনির্বাণ অবিরামভাবে জ্বালিয়ে রাখার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় দিবসসমূহ, রাষ্ট্রীয় বা সামরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মতো বিশেষ আয়োজনগুলোর সময়ই কেবল শিখা অনির্বাণ পূর্ণরূপে প্রজ্বলিত করা হবে। অন্যান্য সময়ে সরকারের জ্বালানি সংরক্ষণ নির্দেশনার সাথে সংগতি রেখে এটি বন্ধ রাখা হচ্ছে।
তদারককারীরা বলেন, ওই এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেলে মাঝেমধ্যে অগ্নিশিখাটি একটু ছোট হয়ে যায়। তবে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা নেই।
আগের মতো শিখা অনির্বাণ জ্বালানো হবে কিনা– এমন প্রশ্নে একই সূত্র জানায়, পুনরায় অবিরাম চালু রাখার কোনো সিদ্ধান্ত তারা এখনও পাননি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আইএসপিআর স্পষ্ট করেছে যে, এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপের কারণে শিখা অনির্বাণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিংবা এর প্রতীকী মূল্য কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হয় না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রধান বাহক ও অভিভাবক হিসেবে কাজ করে আসছে এবং শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি তাদের চিরন্তন শ্রদ্ধা ও পবিত্র দায়িত্ববোধ অটুট রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব, অদম্য সাহস এবং বীর শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। তখন থেকেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম স্মারক হিসেবে এই শিখাটি অনির্বাণ বা অবিরাম জ্বলছিল। বৈশ্বিক বাস্তবতায় দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম এর প্রজ্বলন প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হলো।
মন্তব্য করুন