ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর প্রবেশপথ। লক্ষ্য করলে চোখে পড়বে গ্রেনেড ছুড়ছেন এক তরুণ যোদ্ধা। তাঁর ঠিক সামনে অস্ত্র হাতে অসীম সাহসিকতায় এগিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিকামী এক নারী। সঙ্গে রাইফেল তাক করা আরো দুজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের পেছনে পতপত করে উড়ছে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজ পতাকা।

বনানী থেকে বিমানবন্দরের দিকে যেতে হাতের বাঁয়ে নজরে পড়বে এমনি দৃষ্টিনন্দন একটি ভাস্কর্য। মূল সড়কের পাশে নির্মিত চতুর্দিক থেকে দৃশ্যমান মুক্তিযুদ্ধের এই ভাস্কর্যের নাম ‘বীর’।

বীর’ নামকরণের পিছনে রয়েছে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগান। একজন নারী ও তিনজন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধার দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেখানো হয়েছে যুদ্ধের সাহসী বীর ভঙ্গিমা। যেন নতুন পতাকা, নতুন দিনের স্বপ্ন তাদের চোখে-মুখে। এই পতাকার জন্য ৯ মাস পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লড়েছেন বাংলার দামাল সন্তানেরা। জানা যায়, ‘বনানী ওভারপাস-এয়ারপোর্ট মোড় বিউটিফিকেশন’র আওতায় দেশের সবচেয়ে বড় এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সর্বোচ্চ উচ্চতার ভাস্কর্য এটি। একাত্তরে সংসদ অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা শুনে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগান দিতে দিতে রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্র-জনতা। উত্তাল মার্চে উড়িয়েছিল নতুন পতাকা, পাঠ করেছিল স্বাধীনতার ইশতেহার। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের উত্তাল জনসভায় জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চারণ করেছিলেন বাঙালির মুক্তি সনদের অমর এক আহ্বান: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মার্চের এই অসহযোগ আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে পাকিস্তানি শাসক ও সামরিক বাহিনী শুরু করে গণহত্যা। বাঙালি ও বাংলাদেশের এই চিরভাস্বর অধ্যায় চিরজাগরুক করে রাখতেই এই ভাস্কর্য।

৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬২ ফুট প্রস্থ এবং সাড়ে ৫৩ ফুট উঁচু এটি। সন্ধ্যা হলেই সাত রঙের এলইডি আলো ফুটে উঠে ভাস্কর্য ঘিরে। সাত বীরশ্রেষ্ঠকে স্মরণ করেই প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে সাত রং। দিন-রাত ভাস্কর্য ঘিরে ফোয়ারা থেকে উৎসারিত হয় পানি। এ ছাড়া ভাস্কর্যের নিচের অংশে আছে গাছপালা। নির্মাতাদের দাবি, কমপক্ষে একশ বছর টিকতে সক্ষম এটি। প্রথাগতভাবে এই ভাস্কর্যের কোনো ‘স্থপতি’ নেই। মূল ডিজাইনার চারুকলার পেইন্টিং বিভাগ থেকে সদ্য পাস করা হাজ্জাজ কায়সার। চারুকলারই কয়েকজন মেধাবী তরুণ পাঠচক্রের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। সহযোগিতা করেছেন ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং টিম।

হাজ্জাজ কায়সারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখার জন্য এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য এই ভাস্কর্য। বিশ্বের প্রতিটি দেশে এমন কিছু স্থাপনা বা নিদর্শন রয়েছে যা সেই দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে। সেই চিন্তা থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে ‘বীর’ নির্মাণ করা হয়েছে। যতদিন এখানে বিমানবন্দর থাকবে ততদিন আশপাশে বহুতল ভবন গড়ে উঠবে না। ফলে দূর থেকে সহজেই দৃশ্যমান হবে এটি।

ভাস্কর্যের বর্ণনা দিয়ে হাজ্জাজ কায়সার বলেন, ‘মাঝখানের ফিগারে বসে শত্রুর দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। পাশে একজন নারী ও একজন পুরুষ অস্ত্র নিয়ে শত্রুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে একজন দৃঢ় ভঙ্গিমায় সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর দিকে গ্রেনেড ছুড়ছেন। এ কারণেই এর নাম ‘বীর’। সবার পেছনে বাংলাদেশের তৎকালীন মানচিত্র। যার জন্য যুদ্ধ করছেন তারা।’

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭ শিল্প অঞ্চলে ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

বোবা কান্নার মেঘনা ও আমাদের মরে যাওয়া মনুষ্যত্ব

একের পর এক ‘মিথ্যা’ মামলা, আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মিষ্টি সুবাস

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি সহায়তা চাইল জাতিসংঘ

তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

ভেনেজুয়েলায় ১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প

২৩ জুন ১৯৭১: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তোলপাড় এবং প্রতিরোধ যুদ্ধের উত্তাল দিন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ

২২ জুন ১৯৭১: নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পাকিস্তানে মার্কিন সমরাস্ত্রের চালান

ইরানের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির

১০

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এমপিপুত্র সজীব মুচলেকা দিয়ে মুক্ত

১১

তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক ড্রাগস

১২

২১ জুন ১৯৭১: রণাঙ্গনে প্রতিরোধ যুদ্ধ, যুক্তরাজ্য ও ভারতের যৌথ বিবৃতি

১৩

১৮ জুন ১৯৭১: ঢাকায় দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ, কান্দাপাড়া গণহত্যা এবং রণাঙ্গনের প্রতিরোধ

১৪

বাবা নাকি ৭১-এর শহীদ, অথচ জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে

১৫

আলজেরিয়াকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার শুভ সূচনা

১৬

১৭ জুন ১৯৭১: জগদীশপুর গণহত্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক যুদ্ধ এবং প্রতিরোধ

১৭

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

১৮

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

১৯

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

২০