ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

জয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ভাস্কর্যটির মূল নকশা করেছেন সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান। মূলনাম জয় বাংলা স্লোগান থেকে গৃহীত। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর, ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও পাঁচটি স্মৃতিস্তম্ভের অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্থাপিত প্রথম ভাস্কর্য।

নির্মাণ

২০১৭ সালের জুনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বারক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করে। তখন নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান, মুজাহিদুর রহমান মুসা, জয়াশীষ আচার্য ও ও তপন ঘোষের সহযোগে জয় বাংলার নকশা করেন। ভাস্কর্যের জন্য প্রাথমিক ৫টি নকশা হতে বর্তমান নকশা নির্বাচন করা হয়।

সকল মানব প্রতিকৃতি ‘জীবিত মানুষের ছাঁচ’ থেকে নেওয়া। লোহা, সিমেন্ট, পাথর, কাচ তন্তু এটির মূল উপাদান। লোহার অবকাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে অবয়ব বানানো হয়েছে। ওপরের অংশ লাল ও নিচের অংশ সাদা রঙে আবৃত। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রলেপে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে দাড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতিকৃতিগুলি সিমেন্টের ঢালাইয়ের উপর মার্বেল চুর্ণ দিয়ে আবৃত।

২০১৮ সালের মার্চে নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত অর্থায়ন লাভ করে। প্রাথমিক বাজেটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। কাজ সম্পূর্ণ করতে নয় মাস সময় লাগে।

বর্ণনা

ভাস্কর্যটি দুই স্তরে স্থাপিত। উপরের স্তরে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি আছে, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণকে বোঝায়। পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একজন বাঙ্গালি, অপরজন পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্টির একজন; যা মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের যৌথ অংশগ্রহণের ভাববহন করে। ভূমিস্তরে বর্তমান প্রজন্মের ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিকৃতি নির্মিত, যারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধরে রাখে।

ভাস্কর্যটির উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ১৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২২ ফুট। উপরের স্তরে দাড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট। নিচের স্তরে দাঁড়ানো ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট থেকে ৬ ফুট।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতিহাসের পাতায় এক বীরের পদচ্ছাপ / নৌ-কমান্ডো এনামুল হক ও অপারেশন জ্যাকপট

দুর্ধর্ষ সাঁতারু মুক্তিবাহিনীর অজানা বীরত্বগাথা

শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে একমত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশ / প্রিয়ভূমি’র টানে ৮ নৌসেনার দুঃসাহসিক পলায়ন

ছিনতাইকারীদের ধাক্কা, সড়কে পড়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় শিক্ষার্থী নিহত

৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার আশ্বাস অ্যামচেমের

২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

গ্যাস-কয়লা সংকটে বন্ধ ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র / ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ে কাবু দেশ

সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের সীমা তুলে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১০

রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘অপারেশন জ্যাকপট ডে’ স্মারক অনুষ্ঠান ১৬ আগস্ট

১১

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলো সুনামগঞ্জের কাঙ্ক্ষিতা

১২

‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

১৩

১৩ বছর পর রাজাকার আজাদের আত্মসমর্পণ ও আপিল, শুনানি ১৭ আগস্ট

১৪

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ

১৫

ইলিয়াস আলী গুম মামলা: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৬

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ বহাল

১৭

বেড়েই চলেছে হাম উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল

১৮

বাংলাদেশে ফের বাড়ছে সন্তান জন্মহার, ঝুঁকিতে অর্থনীতি

১৯

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভোট

২০