

বিশ্বরাজনীতির টানটান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের কারণে স্থগিত হওয়া এই বহুল প্রতীক্ষিত সফরটি চলতি সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন।
১. সফরের মূল সূচি ও আলোচ্য বিষয়
সোমবার বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। হোয়াইট হাউস সূত্রমতে, এই সফরের আলোচ্যসূচিতে শীর্ষে রয়েছে:
ইরান পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বেইজিংয়ের ভূমিকা।
বাণিজ্য শুল্ক: দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ ও শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতা।
তাইওয়ান ইস্যু: তাইওয়ান প্রণালীতে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য।
২. কেন এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ?
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। এর আগে মার্চ বা এপ্রিলের শুরুতে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধের অস্থিরতায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
৩. ট্রাম্পের কৌশল: চীনের ওপর চাপের মুখে ইরান
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ইরানের তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। বিশেষ করে চীনের বেসরকারি ‘টিপট রিফাইনারি’গুলো সস্তায় ইরানি তেল আমদানি করে আসছে, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প চাইবেন চীন যেন ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে বা কমিয়ে দেয়।
৪. হোয়াইট হাউসের প্রত্যাশা
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যানা কেলি এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য কোথাও যান না। আমেরিকানরা আশা করতে পারেন যে, তিনি দেশের স্বার্থে একটি ফলপ্রসূ ও ভালো চুক্তি নিয়েই দেশে ফিরবেন।”
৫. আতিথেয়তায় রাজকীয় আয়োজন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া তাঁর সম্মানে একটি রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করছে শি জিনপিং প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, আতিথেয়তার মাধ্যমে বেইজিং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করতে পারে।
এমন এক সময়ে এই সফরটি হচ্ছে যখন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য—সবখানেই ওয়াশিংটন ও বেইজিং বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই তিন দিনের সফর কি বিশ্ব শান্তিতে নতুন কোনো মোড় আনবে, নাকি বাণিজ্য যুদ্ধ আরও ঘনীভূত হবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
সূত্র: হোয়াইট হাউস ও বেইজিং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন