

বেশ অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ভোটের দাগ মোছার আগেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ক্যাপ্টেন কার্ড দিয়েছেন; এখন চারিদিকে কার্ডের ছড়াছড়ি।
মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন, বিড়ালকে আদর করছেন, শিশুদের ক্লাসে নিয়ে ছবি আঁকছেন, এমনকি নিজে গাড়ি চালিয়ে অফিস যাচ্ছেন। ঠিক নয়টায় অফিস, বিলম্ব করা যাবে না। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে কারওয়ান বাজারে যাবেন বাজার করতে । কিছুদিন আগে অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তা ছেড়ে দেওয়াতে তো একেবারে ছক্কা! হৈ হুল্লোড় পড়ে গেছে চারিদিকে—এত মানবিক! এত মানবিক!!
সবাই প্রায় ভুলেই যাচ্ছে হাওয়া ভবনের কথা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র, খাম্বা অথবা দাউদ ইব্রাহিমদের কথা। এ এক নতুন মানুষ! সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া মানুষ।
তাই যদি হয় তবে ওনার একটু মেট্রো চড়া উচিত, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ চলাফেরা করছে। থার্ড টার্মিনালটা চালু করা উচিত। তবে পদ্মা সেতুতে ওঠা অবশ্য ঠিক হবে না, কারণ ওনার মা সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন— “এ সেতু যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে”।
এছাড়াও আছে রূপপুর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট। এর ফলে দেশবাসীর বিরাট উপকার হয়ত হবে, কিন্তু আপনারা ইউরেনিয়াম পাবেন কোথায়? আমেরিকা কি সবসময় রাশিয়া থেকে কেনার অনুমতি দেবে?
বিড়ালকে আদর করা, মেয়েকে নিয়ে মুভি দেখা অথবা জামায়াতের আমীরের বাসায় যাওয়া—সব মিলিয়ে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ যতটুকু হয়েছে, তার সবকিছু ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির বিরুদ্ধে কিছু না বলাতে। সবাই ভাবছে অকর্মণ্য।
এই চুক্তির কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের কৃষি, গার্মেন্টস শিল্প, পোল্ট্রি, ডেইরি, বীজ উৎপাদন, ঔষধ শিল্প এবং গবাদি পশুর বিশাল জাগরণ। এটা দাসত্বের চুক্তিও নয়—এটা দেশ ধ্বংসের চুক্তি। কিভাবে আপনারা এটা এখনও মেনে নিচ্ছেন?
ফ্যামিলি ম্যান প্রাইম মিনিস্টার, আপনি কি একবারও হামের মহামারী নিয়ে কথা বলেছেন? গ্রামীণ স্বাস্থ্য ট্রাস্টের সোশ্যাল বিজনেসের জন্য যে ইউনিসেফের সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে—এর কোন বিচার হবে না?
তবে আপনার অমায়িকতার ইমেজ এখন যেই তুঙ্গে, অশোভন কিছু করা আপনার ঠিক হবে না। কিন্তু রাষ্ট্রটা তো চালাতে হবে। সেটাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।
তবেই আমরা গর্ব করে বলতে পারবো— Our Prime Minister is a family man!
মন্তব্য করুন