ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

৬ আগস্ট বিকালে স্মৃতিফলকের বিভিন্ন অংশ হাতুড়ি দিয়ে এবং পুরো স্মৃতিফলক বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়
প্রিয়ভূমি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

বাংলাদেশের মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে এক একটি নাম, এক একটি অমর ইতিহাস। সেই ইতিহাসের মহানায়কদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্মারক ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ।

সাভারের আকাশচুম্বী জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেখানে সাতটি ধাপে সংগ্রামের ইতিহাস বলে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অপরাজেয় বাংলা' আমাদের মনে করিয়ে দেয় অদম্য তারুণ্যের শক্তি। রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্মুখভাগে অবস্থিত `মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব' প্রতিটি স্থাপনা যেন পাথরের ক্যানভাসে খোদাই করা এক একটি রক্তঝরা কাব্য।

এই ভাস্কর্যগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এগুলো আমাদের শেকড়ের পরিচয়। কর্মব্যস্ত দিনে পথ চলতে চলতে যখনই আমরা এই স্মারকগুলোর দিকে তাকাই, মুহূর্তেই মাথা নত হয়ে আসে সেইসব বীরদের প্রতি, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন মানচিত্রের নাগরিক। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই ভাস্কর্যগুলো দিচ্ছে দেশপ্রেমের অবিরাম প্রেরণা।

মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের স্মৃতিফলক স্বরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ সংবলিত দুইটি ম্যুরাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভাষণের স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। এই ভাস্কর্যটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্মুখভাগে অবস্থিত। ভাস্কর্যটির নকশা প্রণয়ন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক কনক কুমার পাঠক। অসহযোগ আন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর ৬ আগস্ট স্মৃতিফলকটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

অবস্থান

মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব মুর‍্যাল দুইটি কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার অন্তর্গত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্মুখভাগে অবস্থিত। মুর‍্যাল দুইটি হলের প্রধান ফটকের সম্মুখে দুই পাশে অবস্থিত।

ভাস্কর্যের বর্ণনা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে মুর‍্যাল দুইটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ রাশিদ আসকারী ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।

মুক্তির আহ্বান

মুক্তির আহ্বান ম্যুরালটি মূলত সাতই মার্চের ভাষণ সংবলিত একটি ম্যুরাল, মুর‍্যালটি ৩ ফুট ১২ ইঞ্চি বিশিষ্ট একটি মঞ্চের উপর অধিষ্ঠিত, মুর‍্যালটির উচ্চতা ৯ ফুট এবং প্রশস্ততা ১৮ ফুট। মুর‍্যালটি বঙ্গবন্ধু হল থেকে ২০ ফুট ১১ ইঞ্চি দূরত্বে অবস্থিত। ম্যুরালটিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সাদা পাথরে লেখা আছে।

শ্বাশত মুজিব

শ্বাশত মুজিব মুর‍্যালটি মূলত সাতই মার্চের ভাষণের সময়ের স্মৃতিকে স্মরণ করতে সেইরুপ একটি প্রতিমূর্তি। বঙ্গবন্ধু হল থেকে ১২ ফুট ১৫ ইঞ্চি দূরত্বে ম্যুরালটি অবস্থিত। শ্বাশত মুজিব ম্যুরালটির উচ্চতা ১০.৫ ফুট এবং প্রশস্ততা ৭ ফুট। শাশ্বত মুজিবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অন্নদাশঙ্কর রায় ও ইংরেজ লেখক টেরি প্র্যাচেটের দুটি উক্তি খোদাই করা রয়েছে।

স্থাপনা তাৎপর্য

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের তত্ত্বাবধানে এর নকশা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ম্যুরাল স্থাপনের নিমিত্তে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেই চুক্তি মোতাবেক এক বছরের মধ্যেই ভাস্কর্যটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভাস্কর্যটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার পিছনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ধরে রাখতে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে, সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কেও জানতে পারবে।

ভেঙ্গে ফেলা

কোটা আন্দোলনকর্মীদের সরকার পদত্যাগের অসহযোগ আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে। এরপরে ছাত্র জনতা ক্ষিপ্ত শেখ হাসিনার পিতার স্মৃতিচিহ্ন ভেঙ্গে ফেলে। শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর ৬ আগস্ট বিকাল বেলায় স্মৃতিফলকের বিভিন্ন অংশ হাতুড়ি দিয়ে এবং পুরো স্মৃতিফলক বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১০

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১১

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১২

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৩

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৪

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৫

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৬

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৭

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৮

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

১৯

১৭ মার্চ ১৯৭১: ‘নরকে বসেও হাসতে পারি’, বঙ্গবন্ধুর বজ্রশপথ

২০