ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
পবিপ্রবির মুক্ত বাংলা

পটুয়াখালী জেলা তথা সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যে কয়েকটি ভাস্কর্য আমাদের গর্বিত করে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্ত বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান চত্বরে সদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি শৈল্পিক সৃষ্টি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় বীরত্ব আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য।

নির্মাণের প্রেক্ষাপট নেপথ্য কথা

পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের কোনো উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় স্মারক স্থাপনা না থাকায় ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের লাখ এবং জনতা ব্যাংকের লাখ টাকা অর্থায়নে মোট লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান-এর সুনিপুণ নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ২০১১ সালের ৩০শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শুরুতে এর নাম রাখা হয়েছিল জয় বাংলা তবে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এক বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুক্ত বাংলা

স্থাপত্যশৈলী নান্দনিকতা

মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যটি এর উপাদান এবং গঠনের দিক থেকে আধুনিক দীর্ঘস্থায়ী। এটি মূলত মরিচাবিহীন ইস্পাত (Stainless Steel) দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য:

আকৃতি উচ্চতা: ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২২ ফুট। এর পাদদেশ দুই ধাপের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। প্রথম ধাপটি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় ধাপটি ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট প্রস্থের।

উপাদান: এর পাদদেশ বা বেদি আচ্ছাদনে ব্যবহার করা হয়েছে কালো গ্রানাইট পাথর, যা আভিজাত্য গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে। এর চারপাশের বেষ্টনীতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল সিরামিক ইট।

বিপ্লবী অবয়ব: ভাস্কর্যের মূল আকর্ষণ হলো একজন প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার বিপ্লবী মূর্তি। তাঁর কাঁধে পিঠে ঝুলন্ত রাইফেল, মাথায় গামছা দিয়ে পেঁচানো উন্নত শিরযা বাঙালির অপরাজেয় মানসিকতার প্রতীক। দুই হাতে তিনি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মানচিত্রখচিত সেই জাতীয় পতাকা।

গুরুত্ব তাৎপর্য

মুক্ত বাংলা আজ কেবল পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের কোনো স্থাপনা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের পর্যটন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যখন সড়ক দিয়ে হেঁটে যায়, এই উজ্জ্বল ইস্পাতের মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকালে অবলীলায় তাদের মনে পড়ে যায় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। মরিচাবিহীন ইস্পাত যেমন কখনো ক্ষয় হয় না, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাও যে অক্ষয়ভাস্কর্যটি যেন নীরবে সেই বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭ শিল্প অঞ্চলে ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

বোবা কান্নার মেঘনা ও আমাদের মরে যাওয়া মনুষ্যত্ব

একের পর এক ‘মিথ্যা’ মামলা, আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মিষ্টি সুবাস

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি সহায়তা চাইল জাতিসংঘ

তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

ভেনেজুয়েলায় ১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প

২৩ জুন ১৯৭১: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তোলপাড় এবং প্রতিরোধ যুদ্ধের উত্তাল দিন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ

২২ জুন ১৯৭১: নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পাকিস্তানে মার্কিন সমরাস্ত্রের চালান

ইরানের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির

১০

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এমপিপুত্র সজীব মুচলেকা দিয়ে মুক্ত

১১

তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক ড্রাগস

১২

২১ জুন ১৯৭১: রণাঙ্গনে প্রতিরোধ যুদ্ধ, যুক্তরাজ্য ও ভারতের যৌথ বিবৃতি

১৩

১৮ জুন ১৯৭১: ঢাকায় দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ, কান্দাপাড়া গণহত্যা এবং রণাঙ্গনের প্রতিরোধ

১৪

বাবা নাকি ৭১-এর শহীদ, অথচ জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে

১৫

আলজেরিয়াকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার শুভ সূচনা

১৬

১৭ জুন ১৯৭১: জগদীশপুর গণহত্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক যুদ্ধ এবং প্রতিরোধ

১৭

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

১৮

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

১৯

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

২০