ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
পবিপ্রবির মুক্ত বাংলা

পটুয়াখালী জেলা তথা সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যে কয়েকটি ভাস্কর্য আমাদের গর্বিত করে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্ত বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান চত্বরে সদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি শৈল্পিক সৃষ্টি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় বীরত্ব আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য।

নির্মাণের প্রেক্ষাপট নেপথ্য কথা

পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের কোনো উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় স্মারক স্থাপনা না থাকায় ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের লাখ এবং জনতা ব্যাংকের লাখ টাকা অর্থায়নে মোট লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান-এর সুনিপুণ নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ২০১১ সালের ৩০শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শুরুতে এর নাম রাখা হয়েছিল জয় বাংলা তবে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এক বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুক্ত বাংলা

স্থাপত্যশৈলী নান্দনিকতা

মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যটি এর উপাদান এবং গঠনের দিক থেকে আধুনিক দীর্ঘস্থায়ী। এটি মূলত মরিচাবিহীন ইস্পাত (Stainless Steel) দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য:

আকৃতি উচ্চতা: ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২২ ফুট। এর পাদদেশ দুই ধাপের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। প্রথম ধাপটি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় ধাপটি ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট প্রস্থের।

উপাদান: এর পাদদেশ বা বেদি আচ্ছাদনে ব্যবহার করা হয়েছে কালো গ্রানাইট পাথর, যা আভিজাত্য গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে। এর চারপাশের বেষ্টনীতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল সিরামিক ইট।

বিপ্লবী অবয়ব: ভাস্কর্যের মূল আকর্ষণ হলো একজন প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার বিপ্লবী মূর্তি। তাঁর কাঁধে পিঠে ঝুলন্ত রাইফেল, মাথায় গামছা দিয়ে পেঁচানো উন্নত শিরযা বাঙালির অপরাজেয় মানসিকতার প্রতীক। দুই হাতে তিনি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মানচিত্রখচিত সেই জাতীয় পতাকা।

গুরুত্ব তাৎপর্য

মুক্ত বাংলা আজ কেবল পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের কোনো স্থাপনা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের পর্যটন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যখন সড়ক দিয়ে হেঁটে যায়, এই উজ্জ্বল ইস্পাতের মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকালে অবলীলায় তাদের মনে পড়ে যায় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। মরিচাবিহীন ইস্পাত যেমন কখনো ক্ষয় হয় না, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাও যে অক্ষয়ভাস্কর্যটি যেন নীরবে সেই বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামে শিশু মৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন, ১০ দফা দাবি

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ রূপ / ২০ বেডে ৮৭ শিশু

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ / গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না

৩ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা: সিলেটে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

দ্য প্রাইম মিনিস্টার-এ ফ্যামিলি ম্যান!

পেস ত্রয়ীকে বিশ্রাম দিয়ে তরুণ দল পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

লক্ষ্য বড় চুক্তি / বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান উত্তাপের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন ট্রাম্প

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ / মৃত্যু ছাড়াল ৪০০, একদিনে ঝরল ১১ প্রাণ

১১ মে ১৯৭১: আর্তমানবতার পক্ষে কেনেডির গর্জন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

মঙ্গল শোভাযাত্রা—বিশ্বমঞ্চে বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান

১০

বুননশৈলীর মহাকাব্য—ঐতিহ্যবাহী জামদানি

১১

পদ্মা সেতু: বাংলাদেশের সক্ষমতা ও গৌরবের মহাকাব্য

১২

অবশেষে হামে ধরা খেলেন সওদাগর!

১৩

৩৬০ প্রাণের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মেঘনা-ফুলদী তীর

১৪

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: শর্তের বেড়াজালে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সংকট

১৫

৯ মে ১৯৭১: আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ ও পাক-হানাদারের নির্মমতা

১৬

সবাই তো এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

১৭

ইউনূস সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তির আদ্যোপান্ত, পড়ুন পুরো চুক্তিটি

১৮

সবার আগে দেশ, তার আগে আমেরিকা

১৯

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

২০