ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

বাংলাদেশের মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগ করা এক একটি নাম, এক একটি অমর ইতিহাস। সেই ইতিহাসের মহানায়কদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্মারক ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ।

সাভারের আকাশচুম্বী জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেখানে সাতটি ধাপে সংগ্রামের ইতিহাস বলে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অপরাজেয় বাংলা' আমাদের মনে করিয়ে দেয় অদম্য তারুণ্যের শক্তি। রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিটি স্থাপনা যেন পাথরের ক্যানভাসে খোদাই করা এক একটি রক্তঝরা কাব্য।

এই ভাস্কর্যগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এগুলো আমাদের শেকড়ের পরিচয়। কর্মব্যস্ত দিনে পথ চলতে চলতে যখনই আমরা এই স্মারকগুলোর দিকে তাকাই, মুহূর্তেই মাথা নত হয়ে আসে সেইসব বীরদের প্রতি, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন মানচিত্রের নাগরিক। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই ভাস্কর্যগুলো দিচ্ছে দেশপ্রেমের অবিরাম প্রেরণা।

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ ফরিদপুরের শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৯১ সালে বধ্যভূমি হিসেবে সনাক্তকরণের পর ২০১৮ সালে বর্তমান স্মৃতিস্তমটি নির্মাণ করা হয়

অবস্থান

বধ্যভূমিটি ফরিদপুর পৌরসভার দক্ষিণ কালীবাড়ি এলাকায় শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত। বধ্যভূমির উত্তর দিকে ফরিদপুর জজ কোর্ট অবস্থিত।

ইতিহাস

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ফরিদপুর স্টেডিয়ামে (বর্তমানে শেখ জামাল স্টেডিয়াম) তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। পাকিস্তানি সেনারা এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিকামী তরুণদের ধরে এনে বন্দি করে হত্যা করত। হত্যা করে স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের পুকুর পাড়ে মৃত ব্যক্তিকে মাটি চাপা দেওয়া হতো। ঠিক কতজনকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় তা জানা যায়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের কয়েকদিন পর ওই বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদ বাবুল গণকবরের জায়গাটি চিহ্নিত করে ছোট আকারের একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন “স্টেডিয়ামের পুকুর পাড়ে গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে। ওই সময় মাটি খুঁড়ে মাথার খুলি, নারীদের শাখা, চুল, চুড়িসহ কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ”

২০১৮ সালে এখানে বর্তমান স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় ৭ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি লেক ও দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১০

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১১

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১২

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৩

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৪

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৫

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৬

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৭

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৮

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

১৯

১৭ মার্চ ১৯৭১: ‘নরকে বসেও হাসতে পারি’, বঙ্গবন্ধুর বজ্রশপথ

২০