ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানা সদরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের দ্বারা একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করা হয়। এই বধ্যভূমিতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

ঘটনার বিবরণ

১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট, শুক্রবার, কচুয়া থানা সদরে রাজাকারদের একটি থানাভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এই ক্যাম্পটি তৎকালীন সিও (সার্কেল অফিসার) অফিসের একটি ভবন দখল করে গঠন করা হয়েছিল। ক্যাম্পটির প্রথম মাসে রাজাকারদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বেড়ে ১৪১ জনে পৌঁছায়। এই রাজাকার বাহিনী তিন থেকে চার মাস ধরে কচুয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার চালায় এবং তাদের ক্যাম্পের সামনে একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করে।

এই বধ্যভূমিতে রাজাকাররা বিভিন্ন সময়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা, যাদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ:

  • টেংড়াখালী গ্রাম: হাশেম আলী শেখ, মো. হাবিব শেখ, সতীশ চন্দ্র মণ্ডল

  • জুসখোলা গ্রাম: ধলু সরদার

  • চরকাঠি গ্রাম: আজাহার আলী সরদার

  • বারইখালী গ্রাম: মনীন্দ্রনাথ সাহা

  • গুয়াতলা গ্রাম: বাবু খান

  • খলিশাখালী গ্রাম: অনিল চন্দ্র হালদার

  • হাজরাকালী গ্রাম: নুরুল হক শেখ

  • কাকারবিল গ্রাম: শফিউদ্দিন মৃধা এবং তাঁর ছেলে শাহজাহান মৃধা

এই ব্যক্তিদের রাজাকাররা ক্যাম্পের সামনে নিয়ে এসে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো কচুয়া এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের নৃশংসতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বধ্যভূমির তাৎপর্য

কচুয়া থানার এই বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার একটি প্রতীক। এই বধ্যভূমিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা ছিলেন নিরীহ গ্রামবাসী, যাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের ভূমিকা এবং তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের মাত্রা তুলে ধরে।

সূত্র:

  • মুক্তিযুদ্ধ কোষ (দ্বিতীয় খণ্ড), সম্পাদনা: মুনতাসীর মামুন লেখক: স্বরোচিষ সরকার

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামে শিশু মৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন, ১০ দফা দাবি

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ রূপ / ২০ বেডে ৮৭ শিশু

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ / গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না

৩ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা: সিলেটে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

দ্য প্রাইম মিনিস্টার-এ ফ্যামিলি ম্যান!

পেস ত্রয়ীকে বিশ্রাম দিয়ে তরুণ দল পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

লক্ষ্য বড় চুক্তি / বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান উত্তাপের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন ট্রাম্প

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ / মৃত্যু ছাড়াল ৪০০, একদিনে ঝরল ১১ প্রাণ

১১ মে ১৯৭১: আর্তমানবতার পক্ষে কেনেডির গর্জন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

মঙ্গল শোভাযাত্রা—বিশ্বমঞ্চে বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান

১০

বুননশৈলীর মহাকাব্য—ঐতিহ্যবাহী জামদানি

১১

পদ্মা সেতু: বাংলাদেশের সক্ষমতা ও গৌরবের মহাকাব্য

১২

অবশেষে হামে ধরা খেলেন সওদাগর!

১৩

৩৬০ প্রাণের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মেঘনা-ফুলদী তীর

১৪

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: শর্তের বেড়াজালে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সংকট

১৫

৯ মে ১৯৭১: আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ ও পাক-হানাদারের নির্মমতা

১৬

সবাই তো এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

১৭

ইউনূস সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তির আদ্যোপান্ত, পড়ুন পুরো চুক্তিটি

১৮

সবার আগে দেশ, তার আগে আমেরিকা

১৯

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

২০