
রাগও লাগে কিন্তু গালিও দিতে পারি না। আমি কিনা ভদ্রলোক মানুষ, এইটাই হয়েছে মুশকিল—ভদ্রলোক তো গালি দিতে পারবে না। মনে মনেই গজগজ করি। সব দেশ বিশ্বকাপ খেলছে আর আমরা কিনা এখানে বসে বসে আঙ্গুল চুষছি। কেন? আমাদের একজন ‘মহাজ্ঞানী’ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা ভারতে খেলতে যাবো না। আমি তো জানি এই লোক নিতান্ত ক্রনিক ভারত-বিরোধিতা থেকেই এই কাণ্ডটা করেছে। আর এই ভারত-বিরোধিতার জন্যে এই লোক ফটাফট মিথ্যা বলতেও দ্বিধা করে না। এইসব লোকের পাল্লায় পড়ে বিশ্বকাপটা গেল।
এর আগে দেখেননি এই লোকের মিথ্যাচার? বলে কিনা বাংলাদেশে নাকি ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক কাজ করছে। হায় রে, কী সে উত্তেজনা তার! আমরা সবাই জানি এটা ওর মিথ্যা, অল্প কিছু ভারতীয় আমাদের এখানে চাকরি করে বটে, সেগুলো বেশিরভাগই একটু বিশেষায়িত ধরনের কাজ যেগুলোর জন্যে ওদের দরকার হয়। আর সংখ্যাটা মোটেই ছাব্বিশ লক্ষ নয়। আর এই লোক এমনভাবে কথাটা ছড়িয়েছে যেন ভারতের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের সব চাকরি খেয়ে ফেলেছে। তো ভাইজান, আপনি তো সরকারে গেলেন, তাড়িয়েছেন সেই ছাব্বিশ লাখ?
এই লোক ক্রনিক ভারত-বিদ্বেষ ব্যাধিতে আক্রান্ত। পাকিস্তানের সাথে ভাই ভাই পাতিয়েছে। পাকিস্তান তো গিয়ে ঠিকই খেলছে, প্রয়োজনে ভারতে গিয়েও খেলবে—মাঝখানে বাংলাদেশকে রেখে নাকি কিছু বাড়তি টাকা কামিয়ে নিয়েছে। তা ওরা নিক, ব্যাটারা ভিখিরির জাত। ২০২৫-এর জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ওদের প্রায় অর্ধেক মানুষ (৪৬ নাকি ৪৭ পারসেন্ট) দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে। বেলুচিস্তান বেরিয়ে গেলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। ওরা যদি কিছু বাড়তি ডলার পায়, পাক। কিন্তু আমার কেন ওদের সাথে গিয়ে বন্ধু পাতাতে হবে? বলেন।
আমাদের সেই পণ্ডিত আবার মাঝখানে বললো কী? বলে কিনা আইসিসি নাকি বলেছে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়া যাবে না। আইসিসি বললো, মিথ্যা কথা। আইসিসি নাকি বলেছে আমাদের জন্যে ভারতে খেলতে যাওয়ায় সেরকম উল্লেখযোগ্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তাহলে আমরা কেন যাবো না? বলে কিনা মাথা নত করে খেলতে যাবো না। ও ভাই, আমরা কোয়ালিফাই করেছি, নিজের যোগ্যতায় খেলতে যাচ্ছি, এখানে মাথা নত করার কী আছে? এইসব কী বালখিল্য কথা? আসলে এইগুলি সবই ফালতু বাত, মূল কথা হচ্ছে ওর ভারত-বিদ্বেষ।
দেখেন, দুইটা দেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা হয়, সম্পর্ক শীতল হয়, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বা সফর এইসব উত্তেজনা হ্রাস করতে সাহায্য করে। আইসিসির একটা ইভেন্ট, সেখানে তো এমনিতেই আমাদের যাওয়ার কথা। আর এই যাওয়াতে যদি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে তাহলে তো সেটা ভালো কথা, না? না। এই লোক গোঁ ধরে থাকায় আমাদের আর যাওয়া হলো না। আমি নিশ্চিত কিছুদিনের মধ্যে আমরা জানতে পারব যে আমাদের প্লেয়াররা বিশ্বকাপ খেলতে যেতে আগ্রহীই ছিল, ভারতে যেতেও ওদের কোনো আপত্তি ছিল না।
কী একটা খারাপ অবস্থা যে গেছে এই সময়টা। ক্রিকেটটাকে কত ক্ষতি করে গেল! সাকিবকে মিথ্যা মামলা করে দেশে আর থাকতে দিল না। মাশরাফিকেও হেনস্থা করেছে। বোর্ডের এক ডিরেক্টরকে দিয়ে তামিমকে গলাই দেওয়ালো। মানে, আমাদের ক্রিকেট খেলাটা নিয়ে এরা যা ইচ্ছা তাই করে গেল—অথচ ক্রিকেট খেলার চেয়ে ওদের কাছে নাকি কাবাডি গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চয়ই আমরা কাবাডিতেও ভালো করতে চাই, কিন্তু ক্রিকেটের সাথে সেটার গুরুত্ব নিয়ে তুলনা করতে হবে কেন? আসলে এই লোকের ক্রিকেট নিয়ে কোনো আগ্রহই নেই—শুধু ভারত-বিদ্বেষ থেকে এইসব করলো।
কোনোদিন কি ওদের এইসবের জবাবদিহি হবে না?
মন্তব্য করুন