

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এতে এ পর্যন্ত অন্তত ২,৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মোট মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, নিশ্চিত হওয়া মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪,৯৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টাতেই ১০১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা দেওয়া ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। ২০১৪-১৬ সালের সেই প্রাদুর্ভাবে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮,৬১৬ জন আক্রান্ত এবং ১১,৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
গত শুক্রবার জাতিসংঘ সতর্কতা জারি করে বলেছে, "কঙ্গোয় ইবোলা জয়ী হচ্ছে" এবং বর্তমানে মহামারিটিতে প্রতি ৩০ মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে উত্তর-পূর্ব সীমান্তের ৬টি প্রদেশ আক্রান্ত হয়েছে। প্রথম প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়া ইতুরি প্রদেশেই ৩,৪০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাসটির ইতিহাসের ১৭তম এই প্রাদুর্ভাবকে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবে ১,০০০ জনের মৃত্যু হতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল, যেখানে এই প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে ২,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, এই সংক্রমণের জন্য ইবোলার দুর্লভ ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইন দায়ী, যার অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা এখনও নেই। তবে ইতুরি প্রদেশে দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানান, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি টিকা বর্তমানে মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (Médecins Sans Frontières)-এর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ জানান, কন্টাক্ট ট্রেসিং উন্নত হলে সাধারণত মৃত্যুর হার কমার কথা। কিন্তু এখানে অনেক রোগী খুব দেরিতে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসছেন অথবা কমিউনিটিতে মারা যাওয়ার পর তাঁদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশ উগান্ডার রাজধানী কামপালায় অন্তত ২০ জন আক্রান্তের তথ্য নথিভুক্ত হলেও সেখানে কোনো সামাজিক সংক্রমণ ঘটেনি। দেশটির সর্বশেষ রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২১ জুন। এর আগে গত মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো ও উগান্ডার এই পরিস্থিতিকে 'আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি' হিসেবে ঘোষণা করে। তবে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে।
উল্লেখ্য, ইবোলা বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে আসে এবং পরে রক্ত, অন্যান্য শারীরিক তরল বা সংক্রমিত বস্তুর সংস্পর্শে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা ও গলা ব্যথা। পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া, ফুসকুড়ি এবং কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দেয়।
মন্তব্য করুন