

বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ, সাহস ও সংগ্রামের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চাঁদপুরের মতলবে অবস্থিত শহীদ তাজুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার ‘আমার প্রিয় বাংলাদেশ’ সংগঠনের বিশেষ কর্মসূচি ‘বাঙালি জাতিসত্তার অভিযাত্রা: সাহস এবং আত্মত্যাগ’-এর অংশ হিসেবে এ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।
এ দিন সকাল ৮টায় রাজধানীর জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীরা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর গ্রামে শহীদ তাজুল ইসলামের সমাধির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সমাধিস্থলে পৌঁছে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সালাম প্রদর্শন এবং শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সমাধি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজি শহীদ তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহধর্মিণী শহীদ জায়া নাসিমা ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি শহীদ নূর হোসেনের সাহস ও অসামান্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের ঘটনাগুলোর সঠিক অনুসন্ধান ও চর্চায় তরুণদের আরও এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মী রুশো রকিব।
এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. আহাদ, প্রকৌশলী উত্তম কুমার দাস, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অলক দাশগুপ্ত, নাট্য নির্মাতা সাইফউদ্দিন আহমদ, সংগঠক ইদ্রিস আলী এবং উন্নয়নকর্মী সমাপিকা হালদারসহ বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, শহীদ তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আদমজী পাটকলে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন এবং শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি প্রাণ উৎসর্গ করেন।
আয়োজকরা জানান, দেশের স্বাধীনতা, সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত ও প্রমান্য হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই নিয়মিত এ ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন