ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
শহীদ বুদ্ধিজীবী

নওশের আলী

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম
নওশের আলী

ঈশ্বরদীর নওশের আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। সেখানে তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতেন। এ কারণে রাজাকাররা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।

পাকিস্তানি হানাদার সেনারা তখন পাবনায় গ্রামে গ্রামে হানা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে নওশের আলী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় তাঁর বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেখান থেকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি। তাঁর লাশও পায়নি পরিবার।

নওশের আলীর বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আড়মবাড়িয়া গ্রামে। বাবা বাহাউদ্দিন শেখ ও মা নূরজাহান শেখের সংসারে ১৯৩০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। ছয় ভাই, এক বোনের মধ্যে নওশের আলী ছিলেন তৃতীয়। স্কুলজীবন কাটিয়েছেন রাজশাহীতে। ১৯৫৬ সালে তিনি রাজশাহী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে ১৯৪৮ সালে আইএসসি পাস করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাস করে ফিরে আসেন ঈশ্বরদীতে।

শহীদ নওশের আলী ঈশ্বরদীর আলহাজ টেক্সটাইল মিল, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসে (পিআইএ) মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চাকরি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন ৯ নম্বর সেক্টরে। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতেন। মাঝে কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরদীতে ফেরেন। এ সময়ই পাকিস্তানি হানাদাররা গ্রামে গ্রামে হামলা করতে থাকে।

১৫ এপ্রিল স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় বোনের বাড়ি থেকে নওশের আলীকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার সেনারা। তাঁকে ছাড়া আরও তিনজনকে তারা নিয়ে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ক্যাম্পে। এর পর থেকেই আর খোঁজ মেলেনি নওশের আলীর। আগামী প্রকাশনীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ গ্রন্থে এবং সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ গ্রন্থে শহীদ নওশের আলীর সচিত্র জীবনী রয়েছে।

নওশের আলীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে, সবাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার সন্তানদের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সম্প্রতি নওশের আলীর তৃতীয় মেয়ে সাবিনা ইকবাল দেশে এসেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর বাবাকে যখন ফুফুর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর। তাঁর সামনেই বাবাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। কিন্তু দেশে আমার বাবার কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে সরকারি তালিকায় বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে এবং বাবার নামে একটি সড়ক, স্কুল, হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানের নামকরণের দাবি জানাই।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১০

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১১

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১২

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৩

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৪

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৫

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৬

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৭

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৮

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

১৯

১৭ মার্চ ১৯৭১: ‘নরকে বসেও হাসতে পারি’, বঙ্গবন্ধুর বজ্রশপথ

২০