ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
শহীদ বুদ্ধিজীবী

এ কে এম মনিরুজ্জামান

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
০২ জুন ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম
২০ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম
এ কে এম মনিরুজ্জামান

প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলে অবাঙালিরা। বাবার এই করুণ পরিণতির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তাঁর ছেলে রফিকুল আলম। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী, ঢাকায় বসবাস করেন।

শহীদ প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান পাকিস্তান আমলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পেইন্ট শপের ফোরম্যান ছিলেন। পরিবারসহ বসবাস করতেন শহরের সাহেবপাড়া এলাকায় রেলের বাসভবনে। ১৯২৪ সালে তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার কোটচাঁদপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম শামসুদ্দীন আহমেদ। মা জাহানারা বেগম।

রফিকুল আলম বলেন, তাঁর বাবা মনিরুজ্জামান ছিলেন স্বাধীনচেতা মানুষ। সরাসরি রাজনীতি না করলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সহকর্মীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতেন। উর্দুভাষী অবাঙালি প্রধান সৈয়দপুরে স্বাধিকার, স্বাধীনতা নিয়ে বাঙালি সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আলোচনা করতেন। অবাঙালিদের কাছে এটাই ছিল তাঁর অপরাধ।

তখন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২২টি উপকারখানা ছিল। ১৯টির প্রধান দায়িত্বে ছিল অবাঙালিরা। তিনটি উপকারখানার প্রধান ছিলেন তিনজন বাঙালি প্রকৌশলী। এ কে এম মনিরুজ্জামান তাঁদের একজন। বাঙালি কর্মকর্তা হওয়ার জন্যও অবাঙালিদের ঈর্ষার কারণ হয়েছিলেন তিনি। আবু মোহাম্মদ নামের এক অবাঙালি কর্মচারীকে তিনি আপন ভাইয়ের মতো ভালো বাসতেন। কিন্তু সেই আবু মোহাম্মদের ইন্ধনেই অবাঙালিরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

বাংলা একাডেমির রশীদ হায়দার সম্পাদিত স্মৃতি-১৯৭১ গ্রন্থের পুনর্বিন্যাসকৃত তৃতীয় খণ্ডে শহীদ প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামানকে নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক লেখা রয়েছে তাঁর ছেলে রফিকুল আলমের। তিনি লিখেছেন, একাত্তরের মার্চের প্রথম থেকে অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুর উত্তাল হয়ে ওঠে। শহরের সংখ্যালঘু বাঙালিদের তারা অনেকটা অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ অবস্থায় মা সালেহা বেগম ও তাঁদের সাত ভাইবোনকে নানাবাড়ি যশোরে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দেন তাঁর বাবা। তবে তাঁরা যশোর পর্যন্ত যেতে পারেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় চুয়াডাঙ্গায় নামতে বাধ্য হন। সেখানে খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন। চুয়াডাঙ্গায় পাকিস্তানি হানাদার সেনারা গণহত্যা শুরু করলে তাঁরা ভারতে গিয়ে আশ্রয়শিবিরে ওঠেন। বাবার কোনো খবর তাঁরা পাননি। অনেক পরে তাঁরা হত্যার কথা জানতে পারেন।

শহীদ মনিরুজ্জামান সৈয়দপুর স্টেশন থেকে ২১ মার্চ পরিবারকে ট্রেনে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল সেই অবাঙালি সহকর্মী আবু মোহাম্মদ। স্টেশন থেকে ফিরে বাসার দোতলায় একা বসে বই পড়ছিলেন মনিরুজ্জামান। এমন সময় আবু মোহাম্মদ তাঁর রিভলবার থেকে সংকেতসূচক একটি গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রামদা, কিরিচ, বল্লম, তলোয়ার হাতে শতাধিক অবাঙালি বাসভবনটি ঘিরে ফেলে। তারা মনিরুজ্জামানের বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে ফেলে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী সালেহা বেগমের কাছে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি ও দুই হাজার টাকার অনুদান পাঠিয়েছিলেন। সালেহা বেগম ২০১৭ সালে মারা গেছেন। সৈয়দপুর রেলওয়ের শহীদ স্মৃতি পার্কের ফলকে ও ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ সূর্য কেতনে প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের নাম উৎকীর্ণ

রয়েছে। রেলওয়ের বিশেষ প্রকাশনা রেল বাতায়নে শহীদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে সরকারি তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামে শিশু মৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন, ১০ দফা দাবি

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ রূপ / ২০ বেডে ৮৭ শিশু

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ / গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না

৩ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা: সিলেটে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

দ্য প্রাইম মিনিস্টার-এ ফ্যামিলি ম্যান!

পেস ত্রয়ীকে বিশ্রাম দিয়ে তরুণ দল পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

লক্ষ্য বড় চুক্তি / বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান উত্তাপের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন ট্রাম্প

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ / মৃত্যু ছাড়াল ৪০০, একদিনে ঝরল ১১ প্রাণ

১১ মে ১৯৭১: আর্তমানবতার পক্ষে কেনেডির গর্জন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

মঙ্গল শোভাযাত্রা—বিশ্বমঞ্চে বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান

১০

বুননশৈলীর মহাকাব্য—ঐতিহ্যবাহী জামদানি

১১

পদ্মা সেতু: বাংলাদেশের সক্ষমতা ও গৌরবের মহাকাব্য

১২

অবশেষে হামে ধরা খেলেন সওদাগর!

১৩

৩৬০ প্রাণের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মেঘনা-ফুলদী তীর

১৪

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: শর্তের বেড়াজালে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সংকট

১৫

৯ মে ১৯৭১: আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ ও পাক-হানাদারের নির্মমতা

১৬

সবাই তো এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

১৭

ইউনূস সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তির আদ্যোপান্ত, পড়ুন পুরো চুক্তিটি

১৮

সবার আগে দেশ, তার আগে আমেরিকা

১৯

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

২০