ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

হাসনাবাদ গণহত্যা (নবাবগঞ্জ, ঢাকা)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
হাসনাবাদ গণহত্যা (নবাবগঞ্জ, ঢাকা)

১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদে সংঘটিত গণহত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের হাতে ১২ জন নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন। এই নৃশংস ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনার দিন পাকিস্তানি সৈন্যরা পার্শ্ববর্তী দোহার থানা হেডকোয়ার্টার্স থেকে মার্চ করে এসে নবাবগঞ্জের হাসনাবাদে পৌঁছে। তারা পথে দোহার থানার পশ্চিম-উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ও জনপদ অতিক্রম করে। এ সময় তারা ইছামতি নদীবিধৌত ফারি ইক্রাশী ও কাঁচারীঘাট বাজারে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সহায়তায় তারা ইক্রাশী ও কাঁচারীঘাটের হিন্দু ও খ্রিস্টান পল্লীতে হামলা করে। এরপর তারা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে নবাবগঞ্জ থানার হাসনাবাদের হিন্দু পালপাড়া ও খ্রিস্টান পল্লীতে আক্রমণ চালায়।

পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের সহযোগীদের সহায়তায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে গানপাউডার ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন করে। আক্রমণের এক পর্যায়ে তারা হাসনাবাদ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২ জনকে কাঁচারীঘাটে নদীতীরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এই নৃশংসতার পর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান।

শহীদদের পরিচয়

হাসনাবাদ গণহত্যায় শহীদ ১২ জনের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন:

  • ব্রজেন পাল (পিতা: বৃন্দাবন পাল, হাসনাবাদ)
  • গৌরাঙ্গ পাল (পিতা: কালিচরণ পাল, হাসনাবাদ)
  • ধীরেন পাল (পিতা: সাধু পাল, হাসনাবাদ)
  • শংকর পাল (পিতা: নরেশ পাল, হাসনাবাদ)
  • মাধব সূত্রধর (পিতা: যতীন্দ্র সূত্রধর, হাসনাবাদ)
  • দিলীপ সূত্রধর (পিতা: ত্রৈলক্ষ্য সূত্রধর, হাসনাবাদ)
  • মনোরঞ্জন পাল (হাসনাবাদ)
  • পুলহাত পাল (পিতা: সতীশ পাল, হাসনাবাদ)
  • সুদর্শন পাল (হাসনাবাদ)
  • গোবিন্দ সাহা (নতুন বান্দুরা)
  • অনীল গমেজ (পিতা: পিটার গমেজ, মোলাশীকান্দা)

এই গণহত্যার পর শহীদদের লাশ সমাহিত করার মতো কেউ আশেপাশে ছিল না। ফলে তাদের দেহগুলো নদীতে নিমজ্জিত থাকে এবং এক থেকে দুই দিন পর নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

পরিণতি

হাসনাবাদ গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নৃশংসতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ১০ম খণ্ড (মো. আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল মালেক সিকদার)

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭ শিল্প অঞ্চলে ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

বোবা কান্নার মেঘনা ও আমাদের মরে যাওয়া মনুষ্যত্ব

একের পর এক ‘মিথ্যা’ মামলা, আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মিষ্টি সুবাস

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি সহায়তা চাইল জাতিসংঘ

তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

ভেনেজুয়েলায় ১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প

২৩ জুন ১৯৭১: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তোলপাড় এবং প্রতিরোধ যুদ্ধের উত্তাল দিন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ

২২ জুন ১৯৭১: নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পাকিস্তানে মার্কিন সমরাস্ত্রের চালান

ইরানের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির

১০

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এমপিপুত্র সজীব মুচলেকা দিয়ে মুক্ত

১১

তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক ড্রাগস

১২

২১ জুন ১৯৭১: রণাঙ্গনে প্রতিরোধ যুদ্ধ, যুক্তরাজ্য ও ভারতের যৌথ বিবৃতি

১৩

১৮ জুন ১৯৭১: ঢাকায় দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ, কান্দাপাড়া গণহত্যা এবং রণাঙ্গনের প্রতিরোধ

১৪

বাবা নাকি ৭১-এর শহীদ, অথচ জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে

১৫

আলজেরিয়াকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার শুভ সূচনা

১৬

১৭ জুন ১৯৭১: জগদীশপুর গণহত্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক যুদ্ধ এবং প্রতিরোধ

১৭

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

১৮

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

১৯

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

২০