

দায়িত্ব ছাড়ার পর এবার ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনি আতঙ্কে ভুগছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টারা। নিরাপত্তাঝুঁকির অজুহাতে অনেকেই সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই তাদের বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট খালি করতে হবে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের নেতিবাচক উত্তরাধিকার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো দফায় দফায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র:
গত ১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন।
হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন এবং কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জনের।
রাজনৈতিক সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেই এখন খোদ সাবেক উপদেষ্টারা জনরোষের ভয়ে আছেন।
কেন এই আতঙ্ক?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপদেষ্টা জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর, মাজার ভাঙচুর, আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা এবং সমন্বয়কদের চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তা বেশি থাকায় তারা আপাতত সেখানেই নিরাপদ বোধ করছেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান
আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য কোনো পেনশন বা আজীবন আবাসন সুবিধা নেই। তিনি বলেন:
ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ বাসভবন খালি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রয়োজনে কেউ থাকতে চাইলে সর্বোচ্চ ১-২ মাস সময় পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
মার্চের মধ্যেই সব বাসা মেরামত করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
আবাসন সংকটে বর্তমান সরকার
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এছাড়া উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী রয়েছেন আরও ১০ জন। বিপরীতে মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে বরাদ্দযোগ্য বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট আছে মাত্র ৩৭টি। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য দ্রুত আবাসন নিশ্চিত করতে চাইছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
ইতিমধ্যেই ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাসার জন্য আবেদন করেছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও এই তালিকায় রয়েছেন।
ড. ইউনূসের গন্তব্য গুলশান
জানা গেছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দেবেন। তিনি সেখান থেকে তার গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর যমুনাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
মন্তব্য করুন