ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

আমাদের গৌরব অপরাজেয় বাংলা

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৫, ০৮:০৪ পিএম
অপরাজেয় বাংলা

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি ভাস্কর্য। এসব ভাস্কর্য বহন করে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংগ্রামী ইতিহাস। এর মধ্যে একটি অপরাজেয় বাংলা। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সুতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ভাস্কর্যটির নাম অপরাজেয় বাংলা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি বিষয়বস্তু তিনজন দণ্ডায়মান মুক্তিযোদ্ধা। এটি নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। অপরাজেয় বাংলা নামকরণটি করেন মুক্তিযাদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী। ১৯৭২ সালে কলা ভবনের সামনে ভাস্কর্যটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কাজ শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। আর ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।

৬ ফুট বেদীর উপর নির্মিত ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট। এতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়। সর্বস্তরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রতীক অপরাজেয় বাংলা

১৯৭২-৭৩ সালে ডাকসুর ভিপি ছিলেন মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং জিএস ছিলেন মাহবুব জামান। এসময় ডাকসুর উদ্যোগে অপরাজেয় বাংলার কাজে হাত দেওয়া হয়। এর তিনটি মূর্তির একটির ডান হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ে রাইফেলের বেল্ট ধরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। চোখমুখ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত। এর মডেল ছিলেন আর্ট কলেজের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা বদরুল আলম বেনু। থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে সাবলীল ভঙ্গিতে দাঁড়ানো অপর মূর্তির মডেল ছিলেন সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে। আর নারীমূর্তির মডেল ছিলেন হাসিনা আহমেদ। ১৯৭৫ সালের পর অনেকদিন অপরাজেয় বাংলার নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল।

১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পূর্ণোদ্যমে অপরাজেয় বাংলার নির্মাণ কাজ ফের শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। তবে অপরাজেয় বাংলার কাছে ভাস্করের নাম খচিত কোনো শিলালিপি নেই। স্বাধীনতার এ প্রতীক তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন গুণী শিল্পী ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বেদীতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কালক্রমে ভাস্কর্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের অন্যতম পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতিহাসের পাতায় এক বীরের পদচ্ছাপ / নৌ-কমান্ডো এনামুল হক ও অপারেশন জ্যাকপট

দুর্ধর্ষ সাঁতারু মুক্তিবাহিনীর অজানা বীরত্বগাথা

শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে একমত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশ / প্রিয়ভূমি’র টানে ৮ নৌসেনার দুঃসাহসিক পলায়ন

ছিনতাইকারীদের ধাক্কা, সড়কে পড়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় শিক্ষার্থী নিহত

৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার আশ্বাস অ্যামচেমের

২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

গ্যাস-কয়লা সংকটে বন্ধ ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র / ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ে কাবু দেশ

সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের সীমা তুলে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১০

রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘অপারেশন জ্যাকপট ডে’ স্মারক অনুষ্ঠান ১৬ আগস্ট

১১

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলো সুনামগঞ্জের কাঙ্ক্ষিতা

১২

‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

১৩

১৩ বছর পর রাজাকার আজাদের আত্মসমর্পণ ও আপিল, শুনানি ১৭ আগস্ট

১৪

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ

১৫

ইলিয়াস আলী গুম মামলা: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৬

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ বহাল

১৭

বেড়েই চলেছে হাম উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল

১৮

বাংলাদেশে ফের বাড়ছে সন্তান জন্মহার, ঝুঁকিতে অর্থনীতি

১৯

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভোট

২০