ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

পরের নোবেলটি কার? ইউনুস না শফিক?

ডঃ মেহেদী হাসান
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
পরের নোবেলটি কার? ইউনুস না শফিক?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম—অথবা যিনি ‘ডাস্টবিন শফিক’ নামেই বেশি পরিচিত—এই দু’জনে এখন অবলীলায়, শিশুসুলভ হাসি মুখে মিথ্যে কথা বলার দুর্দান্ত প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। দু’জনেই এত সুন্দর করে মিথ্যে বলেন যে বোঝার উপায় থাকে না।

ইন্টারিম প্রধান তো হাত-পা নেড়ে অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখান—মনে হয় সবই সত্যি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বন্দরে সব আন্তর্জাতিক অপারেটর এনে যাদু দেখিয়ে দেবেন। অথচ এরা অনেকেই ২০২২-২৩ সালেই চুক্তি করে বসে আছে, এ খবরটাই নেই। শুধু চুক্তির শর্তগুলো বদলে গেছে। আর নিউ মুরিং তো কোনোদিনই বাইরের কারো হাতে দেওয়ার কথা ছিল না।

কখনো কখনো তাঁদের কথা শুনলে মনে হয়—অন্ধ, কালা, বধির। সবকিছুই নাকি ঠিক আছে। আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, দৈনন্দিন জীবন, দ্রব্যমূল্য—সবই নাকি ঠিক আছে, বরং উন্নতিই হয়েছে। কিন্তু মানুষ বলছে ভিন্ন কথা, বাজার বলছে ভিন্ন কথা।

আর ‘ডাস্টবিন শফিক’ তো এক কাঠি উপরে। মনে হয় উনিই আসল প্রধান উপদেষ্টা, উনিই মহারাজা। দেদারছে মিথ্যে বলায় এখন কেউ আর তাঁদের কথা বিশ্বাস করে না। ফলে পুরো সমাজে গড়ে উঠেছে এক অবিশ্বাসের রাজত্ব। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া—যে যার মতো বলে যাচ্ছে, গড়ে তুলেছে এক অবিশ্বাসের সংস্কৃতি।

খালেদা জিয়া কি জীবিত না মৃত? তোফায়েল আহমেদ কি এখনো বেঁচে আছেন? কাতারের আমিরের অ্যাম্বুলেন্সে যান্ত্রিক ত্রুটি? জেনারেল ওয়াকার ছুটছেন লালমনিরহাটে। ইন্টারিম মহাজন ‘গ্রেটার বেঙ্গল’-এর নতুন মানচিত্রও উপহার দিচ্ছেন। বাজারে সবকিছুর দাম কমছে, চাকরির সুযোগ হু হু করে বাড়ছে। বিদেশের সবাই হাত জোড় করে বলছে—‘আমাদের তরুণ কর্মী দাও’। আবার ভিসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যত্রতত্র।

নোবেল শান্তি পুরস্কার আছে, কিন্তু অবলীলায় মিথ্যে বলার জন্য এখনো কোনো পুরস্কার ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের দেশের এই দুই মহান অভিনেতার জন্য বোধ হয় আলাদা একটা পুরস্কার চালু করা দরকার। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠবে কে পাবে এই পুরস্কার- ইউনুস না শফিক?

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১০

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১১

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১২

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১৩

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৪

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৫

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৬

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৭

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৮

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৯

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

২০