

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এই বিধিমালা সংশোধন করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন এনে যেভাবে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনেও এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বর্তমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ বলতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব, আনসার, ব্যাটালিয়ন আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বোঝায়। এই আইন সংশোধন হলে উল্লিখিত বাহিনীগুলোর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকেও স্থানীয় নির্বাচনে মোতায়েনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেশি হবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব করব। সংজ্ঞায় যুক্ত হলেই যে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হবে, তা কিন্তু না। আমরা ব্যবস্থাটি রেখে দিচ্ছি, যদি প্রয়োজন হয়।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “আমরা দুই দিক চিন্তা করেই এটি রাখছি। প্রথম ধাপের নির্বাচন যদি ভালো হয়, তবে পরের ধাপে সেনাসদস্যদের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি কোনো কারণে নির্বাচন হোঁচট খায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলোতে যেন আমরা অনায়াসে সেনাবাহিনী ডাকতে পারি এবং তখন যাতে আইনি কোনো প্রশ্ন না থাকে।”
ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। এ ছাড়া, দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে এবং আইনি জটিলতার কারণে বাকি ১০টিতে এখনই নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না।
মন্তব্য করুন