ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ: এক অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ: এক অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভয়াবহ ভিডিওচিত্র কওমি মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের এক করুণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন শিক্ষক অত্যন্ত বর্বর উপায়ে অবুঝ শিশুদের পেটাচ্ছেন। এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং শাসনের অজুহাতে দেশের অসংখ্য কওমি মাদ্রাসায় প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধ ঘটছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কওমি মাদ্রাসার পরিধি ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা প্রধানত দুই ধরনের শিক্ষাধারার একটি। এটি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের সিলেবাস ও মতাদর্শে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান, যা মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয় । ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দের গোড়াপত্তনের মাধ্যমে এ ধরনের শিক্ষা পদ্ধতির সূচনা হয় এবং ১৯০১ সালে দারুল উলুম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের তথ্যমতে, তাদের অধীনে নিবন্ধিত কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০টি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনে আরও ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, ফলে সারা দেশে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে । গবেষণায় দেখা গেছে, কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ এতিম বা চরম দরিদ্র পরিবারের সন্তান, যাদের অভিভাবকরা শিক্ষা ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় এখানে পাঠান।

শিশু নির্যাতন: একটি কাঠামোগত সমস্যা

ধারাবাহিক অপরাধের চিত্র

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে শিক্ষকরা গ্রেপ্তার হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে তা আপস-রফায় পর্যবসিত হয় :

লালমনিরহাট (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫): ১২ বছর বয়সি এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তি পান

শ্রীপুর, গাজীপুর (৯ মার্চ ২০২৫): আট বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপে ধামাচাপা দেওয়া হয়

ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম (২৮ এপ্রিল ২০২৫): চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিনে মুক্ত হন

কুমিল্লা (২৯ আগস্ট ২০২৫): ১১ বছর বয়সি দুই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মাত্র দুই সপ্তাহ পর সমঝোতার মাধ্যমে জেল থেকে বের হন

২০২৬ সালের প্রথমভাগেও নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর আপসের চাপ সৃষ্টির চিত্র দেখা গেছে ।

নির্যাতন গোপন থাকার কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদ্রাসায় এই ধরনের অপরাধ আড়াল হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ১. আবাসিক ব্যবস্থার সুযোগ: পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে তদারকি সীমিত থাকে এবং অভিযোগ গোপন রাখা সহজ হয়
  • ২. সামাজিক মর্যাদার অপব্যবহার: ধর্মীয় শিক্ষকের সামাজিক অবস্থানের কারণে শিশুরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের কথা বললে সহজে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না
  • ৩. ছেলে শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতার অভাব: জন আলোচনায় ছেলে শিশুদের ভুক্তভোগী হওয়ার বিষয়টি প্রায়শই আড়ালে থেকে যায়
  • ৪. সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ: কওমি মাদ্রাসার সুনাম রক্ষা, লোকলজ্জার ভয় এবং প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় বেশিরভাগ ঘটনা থানায় পৌঁছানোর আগেই ধামাচাপা দেওয়া হয়

কওমি মাদ্রাসা ও জঙ্গিবাদের সম্পর্ক

কওমি মাদ্রাসার সাথে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয়। বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি সংগঠনের সাথে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস ও আদর্শ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন:

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় দারুল উলুম দেওবন্দ মুসলমানদের ইমান-আকিদা পুনরুজ্জীবনে কাজ করলেও, পরবর্তী সময়ে এর কিছু শাখা রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে । ব্রিটিশদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেওবন্দ মাদ্রাসা মুসলমানদের সচেষ্ট করে তুলেছিল এবং অনেক আলেম স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন । এই আদর্শের অপব্যাখ্যা ও চরমপন্থার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।

জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার কারণ

১. পাঠ্যক্রমের সংকীর্ণতা: কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম মূলত ধর্মীয় শিক্ষার ওপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে আধুনিক বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়। এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সহজেই চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

২. তদারকির অভাব: সরকারি তদারকির বাইরে থাকায় অনেক কওমি মাদ্রাসা বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

৩. অর্থনৈতিক দুরবস্থা: বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দরিদ্র ও এতিম হওয়ায় তারা সহজেই বিভিন্ন গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক লোভনীয় প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়।

৪. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: আবাসিক ব্যবস্থায় পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা সহজেই চরমপন্থী আদর্শে প্রভাবিত হয়।

বর্তমান আইনি অবস্থা

২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি মহামান্য হাইকোর্ট এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তিকে অসাংবিধানিক, নিষ্ঠুর ও মানবাধিকার পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেন (রিট পিটিশন নম্বর ৫৬৮৪/২০১০) । এর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করলেও বেসরকারি কওমি মাদ্রাসাগুলোতে এর কোনো প্রয়োগ ঘটেনি।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ১৯তম অনুচ্ছেদের অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র শিশুদের সুরক্ষা দিতে আইনত বাধ্য। কওমি মাদ্রাসায় সরকারের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ।

প্রতিকারমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ

কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:

আইনি সংস্কার

  • ১. কঠোর আইনি পদক্ষেপ: শিশু নির্যাতনের ঘটনায় আপস-রফা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
  • ২. ন্যাশনাল ডেটাবেজ গঠন: শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা কর্মীদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পেতে পারেন

প্রশাসনিক সংস্কার

  • ৩. শিক্ষক প্রশিক্ষণ: কওমি শিক্ষকদের শিশু মনস্তত্ত্ব ও শিশু সুরক্ষা আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
  • ৪. স্বাধীন তদারকি কমিটি: প্রতিটি মাদ্রাসায় অভিভাবক, স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে শিশু সুরক্ষা ও তদারকি কমিটি গঠন করা
  • ৫. পাঠ্যক্রম সংস্কার: ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও নৈতিকতা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা

সচেতনতামূলক উদ্যোগ

  • ৬. অভিভাবক সচেতনতা: অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা
  • ৭. শিশুবান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা: প্রতিটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সহজ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা তৈরি করা

কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। ঐতিহ্যগতভাবে কওমি মাদ্রাসা মুসলিম সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, তদারকির অভাব, দারিদ্র্য ও সামাজিক অসচেতনতা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু নির্যাতন ও চরমপন্থার কেন্দ্রে পরিণত করেছে ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর এই নির্যাতন ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামে শিশুদের ওপর যেকোনো প্রকারের কঠোরতা বা সহিংসতা নিষিদ্ধ । রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো কোনো শিশুর ওপর হাত তোলেননি এবং শিশুদের প্রতি গভীর স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন। ফলে ধর্মের দোহাই দিয়ে বা শাসনের নামে শিশুদের ওপর অত্যাচার চালানো সম্পূর্ণ ধর্মবিরোধী আচরণ।

যে সমাজ ও রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্র কখনো কোনো সূচকেই সফল হতে পারে না । কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং বেফাকের মতো শিক্ষা বোর্ডগুলোকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ভারতীয় এজেন্ট’ আতঙ্ক ও শহীদ গেজেট বিতর্ক

কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ: এক অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র

গ্রিন ইয়ার্ডের আড়ালে রক্তের দাগ / জাহাজভাঙায় শতকোটির বিনিয়োগেও থামছে না মৃত্যু

অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় শেষ হলো ‘বর্ষামঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’

তীব্র গ্যাসসংকটে ধুঁকছে শিল্পখাত, উৎপাদনে স্থবিরতায় চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণকবরের দাবি একটি ‘কল্পকাহিনী’

‘টেসলা’ সমাচার: বৃষ্টি এলেই ভাড়া দ্বিগুণ, রাস্তায় নামলেই ঝুঁকি

‘জুলাই শহীদ’ গেজেটের অর্ধেক মৃত্যুই ৫ আগস্ট-এর পর

কীভাবে বাখের আলী বাংলাদেশের ‘গেজেটভুক্ত’ জুলাই শহীদ তালিকায় ‘কবির’ হয়ে গেলেন

আঁধারেই ডুবে আছে রাজধানী / বাতিহীন রাস্তায় বাড়ছে ছিনতাই, দুর্ঘটনা আর নিরাপত্তাহীনতার ভয়

১০

নগরায়ণের চাপ, পাল্টে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস

১১

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর / শোক, স্মৃতি আর বিচার পাওয়ার আকুতিতে কাটল বিষাদময় দিন

১২

স্পেনের বিশ্বজয়, মেসির বিষাদ / ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা লা রোখারা

১৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচন / পরিস্থিতি খারাপ হলে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ ইসির

১৪

দুদকে ফাইলবন্দি ৮ হাজার অভিযোগ, পদের জন্য ৩২৭ আবেদন

১৫

শেখ হাসিনা ও আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

১৬

ভাঙছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, অন্ধকারে প্রশাসন ও সওজ!

১৭

জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় নজিরবিহীন জালিয়াতি / জুলাই অভ্যুত্থানের ‘শহীদ’ সৌদি আরবে কর্মরত, অস্তিত্বহীন বাদীর ভুতুড়ে মামলা

১৮

ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনা, অবসান ঘটছে দীর্ঘ ২৩ বছরের অধ্যায়ের

১৯

এমবাপ্পেদের ‘শ্বাস রোধ’ করে ফাইনালে স্পেন

২০