

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সারা দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ ও সিলেটে হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং পুলিশের বাধার ঘটনা ঘটেছে। হবিগঞ্জে দলটির নেতাদের ওপর হামলা ও ১৪৪ ধারা জারির পর সিলেটেও দলটির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটের সীমান্তঘেঁষা উপজেলাগুলোতে বিজিবি মোতায়েন চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এই হামলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেটে পদযাত্রা শেষে এনসিপির বহরে হামলা
সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে কর্মসূচি শেষে বেলা পৌনে ৩টার দিকে এনসিপির গাড়িবহরটি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত 'ভুয়া, ভুয়া' স্লোগান দিয়ে পেপসির বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এনসিপির নেতারা এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা, ৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। এর প্রতিবাদে এনসিপি ও ছাত্রদল একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকলে প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিলে শ্রীমঙ্গলের 'চা-কন্যা' এলাকা ও পরে বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। শায়েস্তাগঞ্জসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
পরে রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে সদর থানায় মামলা দায়ের করে এনসিপি। জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েলের করা মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতেই পুলিশ তাদের আন্দোলন ও মামলাপ্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে। তবে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতেই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থামানো হয়েছিল।
সিলেটে বিজিবি মোতায়েনের আবেদন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
সিলেটে এনসিপির চলমান কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তার স্বার্থে জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে দুই দিনের জন্য বিজিবি সদস্য মোতায়েন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদরদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি সিলেট জেলা শাখা। রাজনৈতিক দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন জেলার আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ।
চট্টগ্রাম ও ফেনীতে উত্তেজনা, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নিন্দা
হবিগঞ্জের হামলার জের ধরে চট্টগ্রামের প্রেস ক্লাবের সামনে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের দোকানপাট সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাতে মশাল মিছিল করে এনসিপি। ফেনীতেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলটি।
এদিকে এনসিপির নেতাকর্মী ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম, এবি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পৃথক বিবৃতিতে এসব হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন